Tuesday, June 30, 2026

রিজিক বাড়ানোর এক অবহেলিত আমল: বেশি বেশি ইস্তিগফার (আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা)

প্রখ্যাত তাবেয়ী আলিম ইমাম হাসান আল-বাসরী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কাছে একদিন কয়েকজন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসেন। 

একজন বললেন, "আমাদের এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে না, খরা চলছে।" তিনি বললেন, "আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন।"

আরেকজন বললেন, "আমার সন্তান হচ্ছে না।" তিনি একই উত্তর দিলেন, "আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন।"

তৃতীয়জন বললেন, "আমার বাগানে ফলন হচ্ছে না।" তিনিও একই পরামর্শ পেলেন, "আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন।"

এ দৃশ্য দেখে তাঁর এক ছাত্র বিস্মিত হয়ে বললেন, "হুজুর! তিনজন তিন ধরনের সমস্যা নিয়ে এসেছেন, অথচ আপনি সবাইকে একই সমাধান দিলেন!"

ইমাম হাসান আল-বাসরী (রহ.) উত্তর দিলেন,
"আমি নিজের পক্ষ থেকে কিছু বলিনি। আল্লাহ তাআলাই কুরআনে এর নির্দেশ দিয়েছেন।"

এরপর তিনি সূরা নূহ-এর এই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করেন— "আমি বলেছি, 'তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করবেন, তোমাদের জন্য উদ্যানসমূহ সৃষ্টি করবেন এবং তোমাদের জন্য নদ-নদী প্রবাহিত করবেন।'" — সূরা নূহ, ৭১:১০–১২

শিক্ষা
এই আয়াতগুলো আমাদের শেখায় যে ইস্তিগফার শুধু গুনাহ মাফের মাধ্যমই নয়; আল্লাহ চাইলে এর বরকতে—
রিজিকে বরকত দান করেন,
বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক কল্যাণ দান করেন,
সম্পদ বৃদ্ধি করেন,
নেক সন্তান দান করেন,
জীবনে বরকত ও প্রশস্ততা দান করেন।

তবে মনে রাখতে হবে, এগুলো আল্লাহর ইচ্ছা ও হিকমতের অধীন। ইস্তিগফার কোনো যান্ত্রিক "ফর্মুলা" বা "টোটকা" নয়; বরং এটি আল্লাহর প্রতি আন্তরিক তাওবা, বিনয় ও তাঁর রহমতের আশা।

রেফারেন্স
আল-কুরআন: সূরা নূহ (৭১), আয়াত ১০–১২।
তাফসীর আল-কুরতুবী, সূরা নূহ ৭১:১০–১২-এর ব্যাখ্যায় ইমাম হাসান আল-বাসরী (রহ.)-এর এই ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন।
তাফসীর ইবন কাসীর, সূরা নূহ ৭১:১০–১২-এর ব্যাখ্যায় ইস্তিগফারের ফজিলত ও এর বরকত সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি ইস্তিগফার করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের জীবনে তাঁর রহমত, বরকত ও হালাল রিজিক বৃদ্ধি করুন। আমীন।

No comments:

Post a Comment